নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিকগঞ্জ জেলাশহরের একটি পার্লারের আড়ালে দেহব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। মানিকগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার এলজিইডি’র পশ্চিম পার্শ্বে ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের ওই বিউটি পার্লারের ব্যবসার আড়ালে
পতিতালয় পরিচালনা করছে উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এক তরুণী।
অভিযুক্তরা হলেন ওই বিউটি পার্লারের মালিক, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বান্দুটিয়া গ্রামের রত্না ইয়াছমিন, তার ছেলে মোঃ তুষার রহমান (২৬), দেড় গ্রাম এলাকার তাজনীন আক্তার চাঁদনী (২৩), পশ্চিম সেওতা এলাকার রিফাত (২৫) ও রজ্জব (২৫), বাইচাইল গ্রামের জহিরুল ইসলাম টিপু (৪৫) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন।
এজাহারে ওই তরুণী উল্লেখ করেন, ‘ রত্না ইয়াছমিন মানিকগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার এলজিইডি’র পশ্চিম পার্শ্বে ‘রাইসা বিউটি ঘর’ নামের একটি বিউটি পার্লারের ব্যবসার আড়ালে উল্লেখিত আসামীসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন আসামীদের সাথে পরস্পর যোগসাজশে পতিতালয় পরিচালনা করে আসছিল। আমি উল্লেখিত বিউটি পার্লারে চাকুরি করতাম। এই সুযোগে রত্না ইয়াছমীন তার সহযোগী অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় আমাকে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে। গত ১১ মার্চ আমার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার (১৩) আমার উত্তর সেওতা এলাকার ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। আমার বোনের বেড়াতে আসার বিষয়টি আসামীরা জানতে পেরে আমার বোন ফাতেমা আক্তারকে দেহ ব্যবসায় আনার জন্য আমার নিকট প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাসায় গিয়ে আমাকে ও আমার বোনকে বিউটি পার্লারে দেহ ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হলে তারা আমাকে মারপিট করা শুরু করে। ইতোমধ্যে আমার ছোট বোন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে আসামীরা আমাকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার জন্য রত্না ইয়াসমিনের উক্ত বিউটি ঘর পার্লারে নিয়ে আটক রাখে। অতঃপর, আসামীরা আমাকে দেহ ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। আমি পূর্বের ন্যায় আসামীদের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে আসামীরা আমাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি মারপিট করে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আমি বাঁচার চেষ্টা করলে আসামীরা আমাকে লোহার শিকল দিয়ে তালা মারে, ওড়না দিয়ে আমার হাত বেঁধে আমার তলপেটে লাথি মেরে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক নীলাফুলা জখম করে। একপর্যায়ে আসামীরা পার্লারে ব্যবহৃত ধারালো কেচি দিয়ে আমার মাথার চুল কেটে ও আমার মুখমন্ডলে কালো কালি লাগিয়ে আমার মুখমন্ডল সহ মাথার সৌন্দর্য নষ্ট করে। আমার বন্ধু সাথী ও সাবিনা আমাকে বাড়ী থেকে আসামীগণ কর্তৃক আমাকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে মানিকগঞ্জ থানা পুলিশকে সংবাদ দিয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় আমাকে আসামীদের কবল হতে উদ্ধার করে। আমাকে উদ্ধার করার সময় থানা পুলিশ রত্না ইয়াছমীনসহ তিনজন আসামীকে হেফাজতে গ্রহণ করে এবং অন্যান্য আসামীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আমাকে উদ্ধার পরবর্তীতে থানা পুলিশ আমাকে মানিকগঞ্জ ২৫০-শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমি আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Reporter Name 














