০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুর পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে ধীরগতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৬ Time View

আকমল হোসেন: সাপ্তাহিক অগ্নিবিন্দু প্রত্রিকায় গত সংখ্যায় ‘প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নামে খরচ দেখিয়ে চলছে অবৈধ বালু ব্যবসা’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে রয়েছে ধীরগতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গদবাধাঁ,দায়সারা গোছের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা কেন? এমন প্রশ্ন জনগনের।

হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে যুবলীগ নেতা ইজারাদারের কাছ থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে নির্ধারিত সীমানার বাইরে অভৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসাশন ও সাংবাদিকদের নামে খরচ দেখিয়েই বিএনপি’র একটি প্রভাবশালী চক্র দাপটের সাথে অভৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানান।

এলাকাবাসী জানান, পদ্মা নদীতে নির্ধারিত সীমানায় বালু উত্তোলন না করে, তাদের সুবিধামত নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করছে। যে কারণে তীরবর্তী শত শত বিঘা জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলেও থামছে না অবৈধ ড্রেজিং। জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দিলেও নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে বালু তুলছেন ঠিকাদার। ভাঙনে হরিরামপুর উপজেলার অন্তত ১৩টি মৌজা এরইমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে উপজেলার নদীরক্ষা বাঁধসহ শতাধিক সরকারি স্থাপনা। আর এই ভাঙনের কারণ হিসেবে পদ্মায় অপরিকল্পিত ড্রেজিংকে দুষছেন স্থানীয়রা।

ইজারাদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় নির্ধারিত জায়গায় বালু উত্তোলন না করে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা থেকে এই বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রতিদিন ৫-৭টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড ভড়া হচ্ছে।  প্রতি ঘন্টায় ১টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে ২ থেকে ৩টি বাল্কহেড বালু ভর্তী করা হয়। বালু ভর্তী বাল্কহেডগুলি চলে যেতেই ড্রেজারের পাশে খালি বাল্কহেড  অবস্থান নেয়।

উত্তোলনকৃত বালু বহন করে যে সমস্ত বাল্বহেডের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার থেকে ১২হাজার বর্গফুট। প্রতিদিন শতাধিক বাল্বহেড এখান থেকে বালু উত্তোলন করছে। বালু ব্যবাসায়ীর হিসাবে গড়ে দশ হাজার বর্গফুট ক্ষমতার একশ বলগেট বালু বর্তমানে উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি বর্গফুট বালুর মূল্য ২ থেকে আড়াই টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ঘণফুট বালু বিক্রি করা হচ্ছে এই মহল থেকে । প্রতিদিনের বিক্রি অনুযায়ী যার মুল্য ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকা।

এই বালু উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধাসহ  সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। নিরাপত্তা হিসেবে রাখা হয়েছে বিশাল ক্যাডার বাহিনী।

প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকার বালু উত্তোলন করা অস্বাভাবিক মনে হলেও এটাই বাস্তব। একারনেই ইজারা প্রতিষ্ঠান মিথিলা এন্টারপ্রাইজের রয়েছে ক্যাডার বাহিনী। এ বাহিনীই প্রসাশন ও সাংবাদিকদের নামেই লাখ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েই দাপটে অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে নিরবতা।

জানা যায়, চলতি বছরে গত ৭ মে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারা নেয় ফরিদপুর জেলার মিথিলা এন্টারপ্রাইজ। গত ২৯ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা এবং দখল বুঝিয়ে দিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসে হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নে দিনে-দুপুরে অন্তত ৫-৭টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে বালু উত্তোলন করছে মিথিলা এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপির নেতাদের দাপটে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারাদার অধিক মুনাফার আশায় নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে এসে বালু উত্তোলন করছেন। কারণ ইজারাকৃত স্থানে রয়েছে ভিটি বালু। যার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা। ইজারাবহির্ভূত স্থানে রয়েছে মোটা বালু যা র্নিমাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। যার বর্গফুটের দাম ২ টাকা থেকে আড়াই টাকা। ইজারাদার নিজের পকেট ভারী করতে অধিক লাভের আশায় ইজারাকৃত স্থান রেখে নদীভাঙন কবলিত স্থানে এসে বালু উত্তোলন করছেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে নাই। আমাদের লোকজন আছে, ১০০ শেয়ার কিনেছে। বৈধ বালু মহালের শেয়ার কিনে ব্যাবসা করছে। প্রশাসনের ইজারাকৃত নির্ধারিত জায়গার বাহিরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এটা প্রশাসন দেখবে।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে নাই। প্রশাসনের ইজারাকৃত নির্ধারিত জায়গার বাহিরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এটা প্রশাসন দেখবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিথিলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আলমগীর হোসেন অগ্নিবিন্দু’কে জানান, নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি ওখানে থাকেন না। ওইখানে অন্য লোক নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানান। স্থানীয় বিএনপির নেতাদের কাছে বালু মহালের শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান। তিনি আরো বলেন, ইজারার খরচ ও স্থানীয় সবাইকে ম্যানেজ করার খরচসহ প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হবে আমার। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহজিা বীসরাত হোসনে অগ্নিবিন্দু’কে জানান, বালু মহালের অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে উপজেলা থেকে জানালে বা নিউজ হলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেছেন, নিষ্টিষ্ট সীমানার বাইরে বালূ কাটা নিষিদ্ধ এবং অপরাধ। আমি বিষয়টি দেখছি।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান অগ্নিবিন্দু’কে জানান,ইজারার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের, পানি উন্নয়ন বোডতো ইজারা দেয় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে অবশ্যই কথা বলবো। যদি ইজারাদার নিয়মের বাইরে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে তাহলে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই পদ্মার চরাঞ্চচল ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। বিষয়টি আমরা দেখবো এবং প্রশাসনকে জানাচ্ছি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

নদী ভাঙন প্রতিরোধে পাটুরিয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

হরিরামপুর পদ্মায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে ধীরগতি

Update Time : ১০:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

আকমল হোসেন: সাপ্তাহিক অগ্নিবিন্দু প্রত্রিকায় গত সংখ্যায় ‘প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নামে খরচ দেখিয়ে চলছে অবৈধ বালু ব্যবসা’ এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে রয়েছে ধীরগতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গদবাধাঁ,দায়সারা গোছের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা কেন? এমন প্রশ্ন জনগনের।

হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে যুবলীগ নেতা ইজারাদারের কাছ থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে নির্ধারিত সীমানার বাইরে অভৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রসাশন ও সাংবাদিকদের নামে খরচ দেখিয়েই বিএনপি’র একটি প্রভাবশালী চক্র দাপটের সাথে অভৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানান।

এলাকাবাসী জানান, পদ্মা নদীতে নির্ধারিত সীমানায় বালু উত্তোলন না করে, তাদের সুবিধামত নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করছে। যে কারণে তীরবর্তী শত শত বিঘা জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলেও থামছে না অবৈধ ড্রেজিং। জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দিলেও নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে বালু তুলছেন ঠিকাদার। ভাঙনে হরিরামপুর উপজেলার অন্তত ১৩টি মৌজা এরইমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে উপজেলার নদীরক্ষা বাঁধসহ শতাধিক সরকারি স্থাপনা। আর এই ভাঙনের কারণ হিসেবে পদ্মায় অপরিকল্পিত ড্রেজিংকে দুষছেন স্থানীয়রা।

ইজারাদারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় নির্ধারিত জায়গায় বালু উত্তোলন না করে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা থেকে এই বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। প্রতিদিন ৫-৭টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড ভড়া হচ্ছে।  প্রতি ঘন্টায় ১টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে ২ থেকে ৩টি বাল্কহেড বালু ভর্তী করা হয়। বালু ভর্তী বাল্কহেডগুলি চলে যেতেই ড্রেজারের পাশে খালি বাল্কহেড  অবস্থান নেয়।

উত্তোলনকৃত বালু বহন করে যে সমস্ত বাল্বহেডের ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজার থেকে ১২হাজার বর্গফুট। প্রতিদিন শতাধিক বাল্বহেড এখান থেকে বালু উত্তোলন করছে। বালু ব্যবাসায়ীর হিসাবে গড়ে দশ হাজার বর্গফুট ক্ষমতার একশ বলগেট বালু বর্তমানে উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি বর্গফুট বালুর মূল্য ২ থেকে আড়াই টাকা। এই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ঘণফুট বালু বিক্রি করা হচ্ছে এই মহল থেকে । প্রতিদিনের বিক্রি অনুযায়ী যার মুল্য ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকা।

এই বালু উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধাসহ  সাবেক এক ছাত্রদল নেতা। নিরাপত্তা হিসেবে রাখা হয়েছে বিশাল ক্যাডার বাহিনী।

প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকার বালু উত্তোলন করা অস্বাভাবিক মনে হলেও এটাই বাস্তব। একারনেই ইজারা প্রতিষ্ঠান মিথিলা এন্টারপ্রাইজের রয়েছে ক্যাডার বাহিনী। এ বাহিনীই প্রসাশন ও সাংবাদিকদের নামেই লাখ লাখ টাকা খরচ দেখিয়েই দাপটে অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রয়েছে নিরবতা।

জানা যায়, চলতি বছরে গত ৭ মে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারা নেয় ফরিদপুর জেলার মিথিলা এন্টারপ্রাইজ। গত ২৯ মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বালুমহালের নির্ধারিত সীমানা এবং দখল বুঝিয়ে দিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসে হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নে দিনে-দুপুরে অন্তত ৫-৭টি ড্রেজার (কাটিং ম্যাশিন) দিয়ে বালু উত্তোলন করছে মিথিলা এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপির নেতাদের দাপটে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারাদার অধিক মুনাফার আশায় নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে এসে বালু উত্তোলন করছেন। কারণ ইজারাকৃত স্থানে রয়েছে ভিটি বালু। যার প্রতি বর্গফুটের দাম ৫০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা। ইজারাবহির্ভূত স্থানে রয়েছে মোটা বালু যা র্নিমাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। যার বর্গফুটের দাম ২ টাকা থেকে আড়াই টাকা। ইজারাদার নিজের পকেট ভারী করতে অধিক লাভের আশায় ইজারাকৃত স্থান রেখে নদীভাঙন কবলিত স্থানে এসে বালু উত্তোলন করছেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে নাই। আমাদের লোকজন আছে, ১০০ শেয়ার কিনেছে। বৈধ বালু মহালের শেয়ার কিনে ব্যাবসা করছে। প্রশাসনের ইজারাকৃত নির্ধারিত জায়গার বাহিরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এটা প্রশাসন দেখবে।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, আমি বালু ব্যবসার সঙ্গে নাই। প্রশাসনের ইজারাকৃত নির্ধারিত জায়গার বাহিরে গিয়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এটা প্রশাসন দেখবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিথিলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আলমগীর হোসেন অগ্নিবিন্দু’কে জানান, নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি ওখানে থাকেন না। ওইখানে অন্য লোক নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানান। স্থানীয় বিএনপির নেতাদের কাছে বালু মহালের শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে বলেও জানান। তিনি আরো বলেন, ইজারার খরচ ও স্থানীয় সবাইকে ম্যানেজ করার খরচসহ প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হবে আমার। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহজিা বীসরাত হোসনে অগ্নিবিন্দু’কে জানান, বালু মহালের অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে উপজেলা থেকে জানালে বা নিউজ হলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেছেন, নিষ্টিষ্ট সীমানার বাইরে বালূ কাটা নিষিদ্ধ এবং অপরাধ। আমি বিষয়টি দেখছি।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান অগ্নিবিন্দু’কে জানান,ইজারার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের, পানি উন্নয়ন বোডতো ইজারা দেয় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে অবশ্যই কথা বলবো। যদি ইজারাদার নিয়মের বাইরে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে তাহলে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই পদ্মার চরাঞ্চচল ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। বিষয়টি আমরা দেখবো এবং প্রশাসনকে জানাচ্ছি।