০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দ-পাকশী নৌ-চ্যানেলে নাব্যতা সংকট ও সীমানা চিহ্ন না থাকায় বিপাকে ইজারাদার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৩১ Time View

আকমল হোসেন : বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল” এ তীব্র নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। ড্রেজিং শুরু হলেও উক্ত নৌ-চ্যানেল দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় এবং গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা চিহ্ন না থাকায় বিপাকে পড়েছে ইজারাদার।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানাযায়, পদ্মা নদীর এই চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গমুখী অসংখ্য পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা কৃষি সার, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল এই পথ হয়ে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছে। অপরদিকে ছোট বড় অসংখ্য বাল্কহেড কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত বালু ও পাথর নিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, সহ অনেক জেলায় পৌছায়। কিন্তু গত তিন মাস ধরে নদীর পানি কমে যাওয়া, ডুবোচর সৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ইজারাদার গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ এর স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, ২০২৫-২০২৬অর্থ বছরের ০১-০৭-২০২৫ খ্রিঃ তারিখ হতে ৩০-০৬-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের জন্য তার প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ ইজারা পেয়েছে। ইজারা মূল্যসহ আর্নেস্টমানি ও আয়কর দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল হয়ে চলাচলকারী নৌ-যান হতে চ্যানেল চার্জ আদায় কেন্দ্র” ঘাট পয়েন্ট (সীমানা: গোয়ালন্দ হতে পাকশি পর্যন্ত পদ্মা নদীর নৌ-চ্যানেল সংলগ্ন এলাকা)। ইজারার প্রথম সময়ে বর্ষা মৌসুমে দু’তিন মাস উক্ত নৌ চ্যানেলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও গত কয়েক মাস ধরে নব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে  জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইজারার চার্জ আদায়ও বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা চিহ্ন না থাকায় ইজারার চার্জ আদায়ও বিপাকে পড়েছে ইজারাদার। গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা জটিলতার কারনে টাকা উত্তোলন করা সম্বব হচ্ছে না অন্যদিকে শিলাইদহ- পাকশী এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ ইজারাদারকে চ্যানেল বুঝিয়ে দিতে পারছে না। উক্ত এলাকায় চিহ্নত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে এক ইজারাদারের টাকা অন্য ইজারাদার জোরপূর্বক উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছে ‘গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল’ ইজারা প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ। এতে ইজারাদারের হিসেব অনুয়ায়ী প্রতিদিন  লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায়, এমন  অবস্থায় আমি ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত  সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি ও লোকসানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা সুব্রত রায় নাব্যতা সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গোয়ালন্দ-পাকশী নৌ-চ্যানেলে পানি কমে যাওয়ায় চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বেশ কিছু দিন ধরে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা  ও সীমানার বিষয় সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গোয়ালন্দ-পাকশী নৌ-চ্যানেলে নাব্যতা সংকট ও সীমানা চিহ্ন না থাকায় বিপাকে ইজারাদার

গোয়ালন্দ-পাকশী নৌ-চ্যানেলে নাব্যতা সংকট ও সীমানা চিহ্ন না থাকায় বিপাকে ইজারাদার

Update Time : ০৯:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আকমল হোসেন : বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল” এ তীব্র নাব্যতা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। ড্রেজিং শুরু হলেও উক্ত নৌ-চ্যানেল দিয়ে ভারী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় এবং গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা চিহ্ন না থাকায় বিপাকে পড়েছে ইজারাদার।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানাযায়, পদ্মা নদীর এই চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গমুখী অসংখ্য পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা কৃষি সার, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল এই পথ হয়ে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছে। অপরদিকে ছোট বড় অসংখ্য বাল্কহেড কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত বালু ও পাথর নিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, সহ অনেক জেলায় পৌছায়। কিন্তু গত তিন মাস ধরে নদীর পানি কমে যাওয়া, ডুবোচর সৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ইজারাদার গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ এর স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ নাছির উদ্দিন জানান, ২০২৫-২০২৬অর্থ বছরের ০১-০৭-২০২৫ খ্রিঃ তারিখ হতে ৩০-০৬-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের জন্য তার প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ ইজারা পেয়েছে। ইজারা মূল্যসহ আর্নেস্টমানি ও আয়কর দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল হয়ে চলাচলকারী নৌ-যান হতে চ্যানেল চার্জ আদায় কেন্দ্র” ঘাট পয়েন্ট (সীমানা: গোয়ালন্দ হতে পাকশি পর্যন্ত পদ্মা নদীর নৌ-চ্যানেল সংলগ্ন এলাকা)। ইজারার প্রথম সময়ে বর্ষা মৌসুমে দু’তিন মাস উক্ত নৌ চ্যানেলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও গত কয়েক মাস ধরে নব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে  জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইজারার চার্জ আদায়ও বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা চিহ্ন না থাকায় ইজারার চার্জ আদায়ও বিপাকে পড়েছে ইজারাদার। গোয়ালন্দ এলাকায় সীমানা জটিলতার কারনে টাকা উত্তোলন করা সম্বব হচ্ছে না অন্যদিকে শিলাইদহ- পাকশী এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ ইজারাদারকে চ্যানেল বুঝিয়ে দিতে পারছে না। উক্ত এলাকায় চিহ্নত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে এক ইজারাদারের টাকা অন্য ইজারাদার জোরপূর্বক উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছে ‘গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল’ ইজারা প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ। এতে ইজারাদারের হিসেব অনুয়ায়ী প্রতিদিন  লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায়, এমন  অবস্থায় আমি ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত  সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি ও লোকসানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা সুব্রত রায় নাব্যতা সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গোয়ালন্দ-পাকশী নৌ-চ্যানেলে পানি কমে যাওয়ায় চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বেশ কিছু দিন ধরে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা  ও সীমানার বিষয় সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।