নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বুধবারের বাস ডুবির ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএসহ উদ্ধারকারীরা। এরই মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নিহত ২৬ জনেরই পরিচয় পাওয়া গেছে, এরমধ্যে কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ৪ জন, ঝিনাইহের ১ জন, গোপালগঞ্জের ১ জন, আশুলিয়ার ১ জন, দিনাজপুরের ১ জন বাকি ১৮ জন রাজরাড়ীর বাসিন্দা। এর মধ্যে ১২ জন নারী, ৬ জন পুরুষ ও ৮ জন শিশু রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খানসহ একই পরিবারের তিনজন রয়েছে।এই পরিবারটিসহ নিহত প্রতিটি পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা শহরের ভবানীপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে মার্স্টার্স পরুয়া মেধাবী শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন হারানোর কষ্টে মলিন সকলে। বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পরছেন নিহত পরিবারের স্বজনেরা।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল হক বলেন, তিনমাস আগে বাবাকে হারিয়েছে, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে মার্স্টার্স পরুয়া মেধাবী শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান। পিতা হারানো শোক কাটিয়ে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী মা রেহেনা আক্তার, ভাগিনা তাজবিদ ও চিকিৎসক বোনকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকায়। রাজবাড়ী থেকে তারা সৌহাদ্য পরিবহনের বাসে উঠেন।
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পদ্মা বাসটি ডুবে গেলে নিহত হন আহনাফ তাহমিদ খান, মা রেহেনা আক্তার ও ভাগিনা তাজবিদ। যদিও চিকিৎসক বোনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। একই পরিবারের তিনজনসহকে হারিয়ে শোকে কাতর পুরো ভবানীপুর এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুখ আহম্মেদ বলেন, আহনাফ তাহমিদ খান ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী বির্তাকিক ও ক্রিড়াবীদ। ভবিষ্যতে একজন অর্থনীতিবিদ হয়ে ফেমাস হওয়ার স্বপ্ন ছিলো তার।
তিনি বলেন, ঈদ এলে ঘাটের এমন দৃশ্য নতুন নয়! তারপরও কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করে না প্রশাসন। তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে বাস ডুবির ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে থেকে ২৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা তিন কার্য দিবসের মধ্যে ঘটনার অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। নিহতদের সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সারা দিন লোকে লোকারন্য ছিল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের দুর্ঘটনা কবলীত এলাকা। উৎসুক জনতা এত বেশি মানুষ নিহত হওার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দেখতে আসে।
বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শনের আসেন, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
এ সময় তিনি বলেন, সড়কে বা নৌপথে আর একটি মৃত্য নয়। অতিদ্রুত নিতি নির্ধারকদের সাথে আলোচনা করে ঘাটের অব্যবস্থাপনাকে মেরামত করা হবে। সেই সাথে এ্যাপ্রোচ সড়কগুলো যাতে নীচু বা চলাচলের উপযোগী করা যায় সেই ব্যাবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে দারাবে সরকার।
Reporter Name 














