নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিকগঞ্জের গোলড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে বিভিন্ন সমস্যায় শিল্প কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে ১০ একর জমির ওপর ৭০টি প্লট নিয়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরীতে বর্তমানে ২৪টি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পেলেও এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়েছে।
অবকাঠামোগত দুর্বলতা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে উদ্যোক্তারা উৎপাদন কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। এর ফলে একসময়ের কর্মচঞ্চল এই শিল্প এলাকা আজ প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
এক সময় এখানে হাজারো শ্রমিক কাজ করতেন। বর্তমানে এক থেকে মাত্র দেড় হাজার শ্রমিক কোনোভাবে কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখেছেন। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরাবস্থায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
উদ্যোক্তা মো. রুহুল আজম বলেন, ‘বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই না। কারখানা চালাতে প্রয়োজনীয় মালামাল দূর থেকে আনতে হয়, ফলে খরচ বেড়ে যায়। এমনকি নিরাপত্তা রক্ষী পর্যন্ত নিজের উদ্যোগে রাখতে হয়। যদি সব কারখানা চালু থাকতো, তাহলে এখান থেকেই প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহ করা যেত।’ তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর বিসিককে সার্ভিস চার্জ দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। বন্ধ কারখানাগুলো চালু করার দাবি জানান তিনি।
বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, গোলড়া বিসিক শিল্পনগরীতে ২৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রুগ্ন কারণে ১০টি বর্তমানে বন্ধ। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে, অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’
স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানান, শিল্পনগরীতে ৭০টি প্লট থাকলেও মাত্র ২৪টি প্রতিষ্ঠান প্রথমে উৎপাদনে যায়। বর্তমানে অনেক মালিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের কারখানা বন্ধ করে রেখেছেন। নতুন মালিকদের বরাদ্দ দিতে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়, ফলে শিল্প এলাকা পুনরুজ্জীবনের সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষার সময় কাদা-পানিতে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূরবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
শ্রমিক শুকুর মিয়া বলেন, এক সময় প্রায় তিনশ’ শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করতাম। এখন মাত্র ৩০-৪০ জন কাজ করি, তাও আবার বেতন ঠিকমতো মেলে না।
উদ্যোক্তাদের দাবি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। অন্যথায় অবশিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানিকগঞ্জের শিল্প উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে দ্রæত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে করে জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পায় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় যেসব কারখানা এখন বন্ধ রয়েছে সেগুলো চালু করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যেসব খালি প্লট রয়েছে সেগুলোও নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 










