নবান্ন উৎসব ও স্বজন সখিনার জন্মদিন পালিত
শাহজাহান শোভন : বাংলার সুপ্রাচীন কৃষিজীবনের মহোৎসব নবান্ন যেন মাটির বুক ছুঁয়ে ওঠা নবজাগরণের ক্ষুরধার রূপ। নতুন ধানের প্রথম শস্যাগন্ধ যখন বাতাসে ভেসে ওঠে, তখন বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য যেন আবারও নবভাবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই চিরায়ত উৎসবেরই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি পাওয়া গেল খাইলকুর বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের নীরব হলরুমে, যেখানে সন্ধ্যার আলো চিকচিকিয়ে উঠেছিল ‘আনন্দে-হর্ষে নবান্ন ১৪৩২’-এর মিলনমেলায়।
মলিন দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে যখন অতিথিদের পদচারণায় উঠোন ভরে উঠছিল, তখন বাতাসে ভেসে আসছিল পিঠার মিঠে গন্ধ; আর আলো-আঁধারির ভাঁজে ফুটছিল মানুষের মুখের হাসি। মনে হচ্ছিল আজ এ আয়োজন কেবল উৎসব নয় বরং মানুষের হৃদয়ে হারিয়ে যাওয়া বন্ধনকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার দিন।
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ , গাছা ও টঙ্গী শাখার উদ্যোগে ২৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, গাছা থানা শাখার সভাপতির প্রদীপ দেবনাথ সভাপতিত্বে ও সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ বাংলা বিভাগের শিক্ষক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন যুগান্তর স্বজন সমাবেশ টঙ্গী শাখার সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, খাইলকুর বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বজনের গাছা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রুবেল, শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহজাহান শোভন, স্বজনের গাজীপুর মহানগরের সভাপতি আমান উল্লাহ, টঙ্গী সরকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক শিক্ষক আজিজ টিপু, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর টঙ্গী শাখা সংসদের সভাপতি উজ্জল লস্কর, টঙ্গী রির্পোটাস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান সাহা, কবি আতিক শাহরিয়ার, স্বজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উম্মে সালমা, খুশি আক্তার রিমি, পাপিয়া সুলতানা, শাখাওয়াত কবির শুভ, নাজমুল আলম, সাইফুল ইসলাম টুটুল, তৌহিদুল ইসলাম, খাদিজা আক্তার মৌমি, ডি.এম ইলিয়াস আলী, হাসান চৌধুরী, বিপ্লব মিয়া, তাজুল ইসলাম, রুবি আক্তার প্রমূখ।
সভাপতির আসনে থাকা যুগান্তর স্বজন সমাবেশ গাছা শাখার সভাপতি প্রদীপ দেবনাথ এক আবেগমাখা কণ্ঠে বলেন নবান্ন আমাদের মাটির সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে এক অন্তরঙ্গ আত্মীয়তার সেতুবন্ধন। নতুন ধান কেবল খাদ্য নয় এ হলো আশার আলো, পরিশ্রমের সৌরভ, মানুষের বিনম্র প্রার্থনা। আমরা যেন এই উৎসবের মাধ্যমে মানবিকতার বীজটি আরও গভীরে বুনতে পারি। আজ আমাদের প্রিয় স্বজন সখিনা আক্তারের জন্মদিন । তাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাই।
স্বজন গাছা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহার রুবেল বলেন “সংস্কৃতি একটি জাতির হৃদস্পন্দন। নবান্নের মতো উৎসব তরুণদের হৃদয়ে মানবিকতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।” মানুষের ভেতরের যে সৌন্দর্য, নবান্ন তা-ই জাগিয়ে তোলে। আমরা আজ এখানে যে মিলনে যুক্ত হয়েছি, তা মানুষের মননকে শুদ্ধ করে, পরস্পরের প্রতি সম্মান জাগায়। এ উৎসব আমাদের আত্মার প্রতিধ্বনি।”
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ টঙ্গী শাখার সভাপতি অলিদুর রহমান অলি হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস থেকে বলেন, “শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা ছাড়া মানুষ পূর্ণতা পায় না। নবান্ন তরুণ প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব মাটি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গৌরবময় পরিচয় করিয়ে দেয়। এ উৎসব হলো আমাদের পরিচয়ের আলো।” যুগান্তর স্বজন সমাবেশ দেশের ঐতিহ্য বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে। আমাদের দেশ মাটি থেকে যা কিছু বিলুপ্তির পথে স্বজন সমাবেশ বার বার তা মনে করিয়ে দেয়।
শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা শাহজাহান শোভন বলেন, “নবান্ন বাঙালির প্রাণের কবিতা। লোককথা, সংগীত, সাহিত্য সবকিছুর মধ্যেই নবান্নের গীতধ্বনি প্রতিনিয়ত বেজে ওঠে। এই উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে জীবন্ত রাখে। শুধু আজকের দিনে নয় আমাদের সব সময় ভাল মানুষের এক থাকতে হবে। নানা ধরনের বই পড়ার মধ্য দিনে জ্ঞান বিজ্ঞান ও সমাজের বিভিন্ন বিষয় অবগত থাকতে হবে। প্রযুত্তির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। মোবাইল আসক্ত থেকে প্রজন্মকে বাঁচাতে আমাদের এখনই সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
গাজীপুর স্বজনের সভাপতি আমান উল্লাহ আমান বলেন “মানুষ যখন মিলিত হয়, তখন আনন্দের রূপ আরও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। নবান্ন আমাদের সেই মিলনের পাঠ শেখায়। স্বজন সমাবেশের মাধ্যমে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিই সৌহার্দ্যের বার্তা।
সাংস্কৃতিক কর্মী আঃ আজিজ টিপু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন “এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি নিজেকে ফিরে দেখারও একটি পথ। মাটির গন্ধ, মানুষের হাসি, পিঠার মাধুর্য—সব মিলিয়ে নবান্ন আমাদের শেকড়ের চিরন্তন স্মারক।” বাল্যজীবনের আমাদের এ উৎসবের কথা মনে হলে সেই ভোর বেলা পিঠা পুলি, ধান খেতে ধান কাটা, মা বোনদের ধান শুখানো চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে।
সখিনা আক্তার বলেন, আমি স্বজন সমাবেশ এ এসে অনেক ভাল ভাল বন্ধু পেয়েছি। আজকে নবান্ন উৎসবে আমার জন্মদিন পালন করার জন্য যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, টঙ্গী শাখা, গাছা শাখা, ও শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আলোচনা ও নবান্ন আনন্দ আড্ডা শেষে এক উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল স্বজন সখিনা আক্তারের জন্মদিন উদ্যাপন। শুভেচ্ছা ও স্নেহের উষ্ণতায় প্রাঙ্গণ যেন আরও আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠল। পিঠার মতোই ছিল মানুষের মনের মাধুর্য, আর হাসিমুখগুলো যেন পূর্ণিমার চাঁদের মতো দীপ্ত।
Reporter Name 








