ইজারায় প্রায় ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ, ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার
আকমল হোসেন : বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল” এ তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। উক্ত নৌ-চ্যানেল” ইজারায় প্রায় ৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসায়িক ভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান নাছির উদ্দিন ।
পদ্মা নদীর এই চ্যানেল দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গমুখী অসংখ্য পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা কৃষি সার, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল এই পথ হয়ে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছে। অপরদিকে ছোট বড় অসংখ্য বাল্কহেড কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত বালু ও পাথর নিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরিশাল, সহ অনেক জেলায় পৌছায়। কিন্তু গত প্রায় তিন মাস ধরে নদীর পানি কমে যাওয়া, ডুবোচর সৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইজারাদার গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ এর স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, ২০২৫-২০২৬অর্থ বছরের ০১-০৭-২০২৫ খ্রিঃ তারিখ হতে ৩০-০৬-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের জন্য তার প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ ইজারা পেয়েছে। ইজারা মূল্যসহ আর্নেস্টমানি ও আয়কর দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল হয়ে চলাচলকারী নৌ-যান হতে চ্যানেল র্চাজ আদায় কেন্দ্র” ঘাট পয়েন্ট (সীমানা: গোয়ালন্দ হতে পাকশি পর্যন্ত পদ্মা নদীর নৌ-চ্যানেল সংলগ্ন এলাকা)। ইজারার প্রথম সময়ে বর্ষা মৌসুমে দু’তিন মাস উক্ত নৌ চ্যানেলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করলেও গত কয়েক মাস ধরে নব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইজারার র্চাজ আদায়ও বন্ধ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দর অফিস সূত্রে জানাগেছে, “গোয়ালন্দ-পাকশি নৌ-চ্যানেল” পানির গভীরতা ৮-১০ ফিট। এসব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য পনির গভীরতা প্রয়োজন ১২ থেকে ১৮ ফিট। পণ্যবাহী জাহাজ বন্ধ থাকার কারণে অর্ধেক টাকা এখনো তোলা সম্ভব হয়নি। ইজারার হিসেব অনুয়ায়ী প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায়, এমন অবস্থায় আমি ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি ও লোকসানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।