নিজস্ব প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের ৩টি আসনের চুড়ান্তা ফলাফলে দেখা গেছে, প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে ১৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মোট বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
মানিকগঞ্জ-১ এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৩টি। সেই হিসেবে জামানত রক্ষার জন্য একজন প্রার্থীর ন্যূনতম প্রয়োজন ছিল ৩৭ হাজার ৩০৮ ভোট।
প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট: এস এ জিন্নাহ কবির (বিএনপি)- ১,৩৭,৭৭৩ ভোট, মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা (স্বতন্ত্র)-৭৭,৮১৮ ভোট, আবু বক্কর সিদ্দিক (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) – ৭১,৩১০ ভোট, মোঃ আব্দুল আলী বেপারী (স্বতন্ত্র) -৬,৯৬৬ ভোট, মোঃ খোরশেদ আলম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) -৩,২৪৭ ভোট, মোহাম্মদ ইখতিয়ার হোসাইন (গণঅধিকার পরিষদ)-১,০৬৬ ভোট, মোহাম্মদ শাহজাহান খান (জনতার দল) -২৮৩ ভোট।
ফলাফলে দেখা যায়, এস এ জিন্নাহ কবির থেকে মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা ও আবু বক্কর সিদ্দিক নির্ধারিত ন্যূনতম ভোটের বেশি পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। অন্যদিকে বাকি চারজন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ ।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৫টি। সে হিসেবে এ আসনে জামানত টিকিয়ে রাখতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ৩৩ হাজার ৫৩০ ভোট।
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক) ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এ দুই প্রার্থী সাড়ে বারো শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বহাল রয়েছে। অন্যদিকে এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের। যিনি (লাঙল প্রতীকে) ৭ হাজার ৮১ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা প্রতীক) ৩ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়েছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩২টি। সে হিসেবে এ আসনে জামানত রক্ষায় একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ৩৩ হাজার ২৫৪ ভোট।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদনূর (রিকশা প্রতীক) ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
তবে সাড়ে বারো শতাংশ ভোটের শর্ত পূরণ করতে পেরেছেন কেবল বিজয়ী প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদ সাঈদনূর। অন্যদিকে এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার। তিনি (ফুটবল প্রতীকে) ২০ হাজার ৫৫১ ভোট পেয়েছেন, এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান (মোটরসাইকেল) ৩ হাজার ৬১০ ভোট, বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী (মোটরগাড়ি) ৩ হাজার ৫১০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শামসুদ্দিন (হাতপাখা) ২ হাজার ৭৮৭ ভোট, জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা (লাঙল) ১ হাজার ৯৬৬ ভোট, জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস (বাইসাইকেল) ১ হাজার ৩৩৭ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম খান কামাল (সূর্যমুখী ফুল) ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন।
Reporter Name 












