মোহাম্মদ আলী : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়রা ইউনিয়নের আন্দারমানিক গ্রামের সোহেল রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা, মারধর, জমি দখল ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা নিজেকে এনসিপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিক উইংয়ের মানিকগঞ্জ জেলা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে আসছেন। যদিও তার এই পদবী বা দায়িত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল রানা দৃশ্যমান কোনো পেশার সাথে জড়িত নন। এলাকাবাসীর ধারণা, তিনি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথেও যুক্ত থাকতে পারেন। ৫ আগস্টের পর থেকে সোহেল রানা হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণিসম্পদ অফিস, সমাজসেবা অফিস ও এসিল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাজসেবা অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোহেল রানার এসব আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।” ভূয়া সমন্বয়কারী পরিচয়ে চাঁদাবাজী,ভয়ভীতি, হুমকি, ভূমি দখল এবং মিথ্যা মামলায় ফাসানোর অভিযোগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে হরিরামপুরবাসী মানববন্ধন করেছিল গত ৭ ই সেপ্টেম্বর । এর প্ররিপেক্ষিতে ৩ দিন পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইমদাদুল হক (শাহীন,) শাফিয়া বেগম সহ ৮ জন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয় মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ২৫/১০/২৫ এ সি আর মামলা -২৬৯(হরঃ) ২০২৫। উল্লেখিত, ঘরবাড়ি ভাংচুর সহ সোহেল রানার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ও গুরতর জখম করেছে ” এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট যার কোন ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এ মামলার স্বাক্ষী মোবারক হোসেন জানান,আমি ঘটনা সম্পর্কে আদৌও কিছু জানি না। উপজেলা অটোর গেরেজ এর দোকানদার আনোয়ার হোসেন জানান,আমি এমন ঘটনা আদৌও হয়েছে কি জানিনা কিংবা দেখিনি। ভুক্তভোগী সাফিয়া বেগম জানান,আমি সহ আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দাবি জানাচ্ছি। বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং সদস্য ইমদাদুল হক (শাহীন) জানান, সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও রয়েছে এই সোহেল রানার বিরুদ্ধে । বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ মিরাজ মিয়া জানান, সোহেল রানার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ জনগন। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপজেলার দাসকান্দি বয়ড়ার মোঃ বাবু মিয়া জানান,ভূয়া সমন্বয়ক সোহেল রানার বিরুদ্ধে মানবন্ধন সহ প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। ভুক্তভোগী লিটন জানান,ভূয়া সমন্বয়ক চাঁদাবাজ সোহেল রানা বিরুদ্ধে মানবন্ধন করার ৩ দিন পরেই আমি সহ ৮ জন ভুক্তভোগীর নামে (তার স্ত্রী কে ব্যবহার করে) কোর্টে মিথ্যা মামলা করেন। আমি আদৌও কোন ভাবে বাড়ি ভাংচুর ও আক্রমণের বিষয়ে কোন ভাবে জড়িত না। মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতে আমার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহল রানা মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন। আমি প্রশাসনের দারস্থ হয়েও আদৌও কোন প্রতিকার পাইনি এবং নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় ভুগচ্ছি। স্থানীয়রা জানান,শান্ত হরিরামপুরকে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এই ভূয়া সমন্বয়ক পরিচয়ের সোহেল রানা । তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাধারন জনগন। সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের হাকিম উদ্দীন (মাস্টার) এর পুত্র। সোহেল রানাকে এ বিষয়ে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জিজ্ঞেসা করলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
Reporter Name 












