আকমল হোসেন : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার ও আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন বৈধ নৌ-চ্যানেল ইজারাদার দুই গ্রুপের মধ্যে চরম বিরোধিতায় যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ,হামলা এবং প্রশাসনিক ভাবে সরকারি বিধি মোতাবেক বৈধ মিমাংসা না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী, মোঃ বিল্লাল খান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন বৈধ নৌ-চ্যানেল চার্জ আদায়ের সময় হুমকি-ধামকী ও ভয়ভীতি প্রর্দশনসহ ট্রলারে লোকজন ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ইজারাদারকে চ্যানেলটি বুঝিয়ে দিতে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তৃপক্ষ গত ৯ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত ভাবে বিষয়টি অবগত করেছেন।
ইজারাদার মোঃ নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য নৌ-চ্যানেলটি ইজারা পায়। বিআইডব্লিউটিএ’র অফিস সূত্রে জানাযায়, (২০২৬-২০২৭) অর্থ বছরের (০১-০৭-২০২৬ তারিখ হতে ৩০-০৬-২০২৭ তারিখ পর্যন্ত ইজারার কার্যকারিতা রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন বৈধ নৌ-চ্যানেলটির চার্জ আদায় শুরু করলে বাঁধার মুখে পড়েন বিল্লাল খানের সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে।
গত ২১ জুলাই বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তৃপক্ষ সীমানা বুঝিয়ে দিতে গেলে ৫টি স্পীড বোডে ৫০/৬০জন হেলমেড পড়া আকিবুল খান ও মোঃ বিল্লাল খানের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার আধিপত্য বিস্তার করে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে গত শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বাল্কহেড ড্রেজার মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে প্রশাসনকে বিভ্রান্তি করছে। এদিকে সরকারি বিধি মোতাবেক বৈধ ভাবে প্রায় ৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জামা দিয়ে ইজারা নিয়ে চ্যানেল চার্জ আদায় করতে পারছে না ইজারাদার।
আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন ‘গোয়ালন্দ হতে পাকশী’ এবং হরিরামপুর হতে সিরাজগঞ্জ’ পর্যন্ত নৌ-চ্যানেল ইজারাদার মোঃ নাছির উদ্দিন সীমানা বুঝে না পাওয়ায় এবং চ্যানেল চার্জ আদায়ে সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আজিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও ফ্যাসিবাদি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রধান অর্থের যোগানদাতা আকিবুল খান এবং বর্তমান সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর বাসভবন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার ১০ নম্বর আসামী যাহার-মামলানং-হরিরামপুর-১০,তারিখঃ৩০-১০-২০২৪ইং। ধারা;১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এর এজাহার ভূক্ত আসামী লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মোঃ বিল্লাল খানের বিরুদ্ধে।
একটি বিশ্বস্তসুত্রে জানাযায়,পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও ইজারাদারদের সীমানা বুঝিয়ে দিতে এবং মিমাংসার জন্য গত ২৩ জুলাই মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট অফিসার এবং দুই ইজারাদারদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুরাহা করেন। এর পরও লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মোঃ বিল্লাল খান তা না মেনে উল্টো অভিযোগ করছেন।
ভূক্তভোগী ইজারাদার মোঃ নাছির উদ্দিন অগ্নিবিন্দু’কে জানান, আমি নিয়ম মেনে সরকারি বিধি মোতাবেক বৈধ ভাবে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৭ কোটি টাকা জামা দিয়েছি। গত ১ জুলাই ২০২৬ইং তারিখ থেকে আগামী ৩০ জুন ২০২৭ইং তারিখ পর্যন্ত ১ বছরের জন্য আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন নৌ-চ্যানেলটির চার্জ আদায় করার জন্য সরকার আমাকে বৈধতা দিয়েছে। প্রায় ১মাস অতিবাহিত হতে চলছে আমার লোকজন চার্জ আদায় করতে পারছে না খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী, মোঃ বিল্লাল খান ও আকিবুল খান এর সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য। তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার লোকজনকে ভয়ভীতিসহ ধরে নিয়েছিল। গত ৮ জুলাই আনুষ্ঠানিক ভাবে আরিচা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রনাধীন নৌ-চ্যানেলটির সীমানা নির্ধারণ ও উদ্বোধন করার কথা ছিল। মানিকগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন থেকে একদিন পরে করার নির্দেশনা দিলে উদ্বোধন স্থগিত হয়। চ্যানেলের জটিলতার বিষযটি বিআইডব্লিউটিএ’র উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে।
লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারাদার মোঃ বিল্লাল খান অগ্নিবিন্দু’কে জানান, একটি কাগজ নিয়ে এসেতাদের সীমানাহরিরামপুর পর্যন্ত দাবী করছে। আবার আরেকটি কাগজে কয়েকটি গ্রাম উল্লেখ করে নিয়ে এসে চাঁদা তুলতে চাইছে। তাদের যদি বৈধতা থাকে আমাদের চিঠি দিক। এটা প্রশাসন দেখবে, প্রশাসন বলে দিবে। আমি আইনকে শ্রদ্ধা জানাই। দুই ইজারাদারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মীমাংসার জন্য বসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে আমি ছিলাম না । আমার চাচা আকিবুল খান ছিলেন।
এ বিষয়ে আকিবুল খান অগ্নিবিন্দু’কে জানান, ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকিরবিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যবসার সাথে আমি জড়িত না। বালু মহালের ইজারাদার ও নৌ-চ্যানেলের ইজারাদার এরা বুঝবে, এদের বিষয়। এটা নিয়ে কাজ চলছে। প্রশাসন আছে,মন্ত্রী-এমপি আছে, তারা দেখবে। তবে দু‘এক দিনের মধ্যেই এটা সমাধান হয়ে যাবে।
জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা অগ্নিবিন্দু’কে জানান, এবিষয়ে আজকে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিবো, কাজ শুরু করেছি।
Reporter Name 


















